বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের গতিসীমা
বিআরটিএ ‘মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা, ২০২৪’-এ প্রতিটি যান ও সড়কের জন্য আলাদা গতিসীমা ঠিক করেছে। এটি সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা 44(1) অনুযায়ী 7 মে 2024 জারি হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়। গ্রামীণ সড়ক ছাড়া সব সড়কে মোটরসাইকেলের সীমা গাড়ির চেয়ে কম। বিআরটিএ-র প্রকাশিত কপির সঙ্গে মেলানো হয়েছে 14 অক্টোবর 2026 তারিখে।
সড়ক অনুযায়ী মোটরসাইকেলের গতিসীমা
- এক্সপ্রেসওয়ে (সার্ভিস লেনসহ চার বা ছয় লেন, বিভক্ত)60 কিমি/ঘণ্টাগাড়ি 80
- জাতীয় মহাসড়ক, ক্যাটাগরি-এ (চার বা ছয় লেন, বিভক্ত)50 কিমি/ঘণ্টাগাড়ি 80
- জাতীয় মহাসড়ক ক্যাটাগরি-বি ও আঞ্চলিক মহাসড়ক (দুই লেন, ডিভাইডার নেই)50 কিমি/ঘণ্টাগাড়ি 70
- জেলা সড়ক50 কিমি/ঘণ্টাগাড়ি 60
- সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা জেলা সদরের ভেতর দিয়ে যাওয়া মহাসড়ক30 কিমি/ঘণ্টাগাড়ি 40
- সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা জেলা সদরের অন্য সড়ক30 কিমি/ঘণ্টাগাড়ি 40
- উপজেলা সড়ক30 কিমি/ঘণ্টাগাড়ি 40
- শহরের প্রাইমারি সড়ক (দুই লেন, অবিভক্ত)30 কিমি/ঘণ্টাগাড়ি 40
- শহরের সরু বা শেয়ার্ড সড়ক20 কিমি/ঘণ্টাগাড়ি 30
- গ্রামীণ সড়ক30 কিমি/ঘণ্টাগাড়ি 30
সূত্র: বিআরটিএ নির্দেশিকা, অনুচ্ছেদ 2। সড়কে লাগানো সাইন (বাঁক, ব্রিজ, লেভেল ক্রসিং, সংযোগস্থল, বাজার, স্কুল, হাসপাতাল) কম হলে সেটাই প্রযোজ্য।
ঢাকায় বাইকের গতিসীমা কত?
30 কিমি/ঘণ্টা। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা জেলা সদরের ভেতরের সব সড়কে, ভেতর দিয়ে যাওয়া জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কেও এই সীমা। সরু বা শেয়ার্ড শহুরে সড়কে 20 কিমি/ঘণ্টা। একই সড়কে গাড়ির সীমা 40।
মহাসড়কে বাইকের সীমা 50 না 60 কিমি/ঘণ্টা?
জাতীয় মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক ও জেলা সড়কে 50 কিমি/ঘণ্টা; 60 কিমি/ঘণ্টা শুধু এক্সপ্রেসওয়েতে। কিছু খবরে মহাসড়কে 60 লেখা দেখবেন: ঢাকা ট্রিবিউন 8 মে 2024 এই অঙ্ক দেয়, কিন্তু সেটি ছিল বিআরটিএ-র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো খসড়া। জারি করা নির্দেশিকায় 50 আছে, একই কথা লিখেছে Daily Observer (8 May 2024) ও The Business Standard (10 May 2024)। দুটো না মিললে নির্দেশিকা আর সড়কের সাইন মানুন।
স্কুল, হাসপাতাল, বাজারের কাছে আর খারাপ আবহাওয়ায়
স্কুল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, আবাসিক এলাকা ও হাট-বাজারের পাশে সীমা ঠিক করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা সড়ক নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান, তবে জাতীয় মহাসড়কে তা কখনো 40 আর আঞ্চলিক মহাসড়কে 30 কিমি/ঘণ্টার বেশি হবে না। টেবিলের সীমা শুধু স্বাভাবিক অবস্থার জন্য: ঝড়, প্রখর রোদ, ভারী বৃষ্টি বা কুয়াশায় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এমন গতিতে চালাতে হবে, আর সামনে দেখা না গেলে থামতে হবে (নির্দেশিকা 3.2 ও 3.4)।
গতিসীমা ভাঙলে জরিমানা কত?
সর্বোচ্চ ৳10,000 জরিমানা, সর্বোচ্চ 3 মাস জেল বা দুটোই, আর লাইসেন্স থেকে 1 পয়েন্ট (সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮, ধারা 44 ও 87)। অতিরিক্ত গতিতে দুর্ঘটনায় জীবন বা সম্পদের ক্ষতি হলে শাস্তি বেশি (ধারা 98)। বিআরটিএ মে 2024-এ জানায়, প্রয়োগ ধাপে ধাপে হবে: আগে প্রচার, এর মধ্যে মোবাইল কোর্ট ও পুলিশের স্পিড গান (TBS, 10 May 2024)। 18 আগস্ট 2026 থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের ক্যামেরাও গতিসীমা ভাঙা ধরে: দেখুন ই-জরিমানা ও ভুয়া এসএমএস।
পদ্মা সেতুতে গতিসীমা
জুন 2022-এ সেতুতে মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ হয়, 20 এপ্রিল 2023 থেকে আবার অনুমতি পায়, সার্ভিস লেনে সর্বোচ্চ 60 কিমি/ঘণ্টায় (Prothom Alo, 18 Apr 2023)। টোল প্লাজার সাইন মানুন, পরে বদলে থাকতে পারে।
সূত্র: বিআরটিএ মোটরযান গতিসীমা নির্দেশিকা, ২০২৪ (সরকারি পিডিএফ) · সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ (সরকারি পাঠ), 14 অক্টোবর 2026 তারিখে মেলানো।
এটি সহজ ভাষায় সারাংশ, আইনি পরামর্শ নয়। দেখুন দায়মুক্তি।
আরও: মোটরসাইকেলের সব জরিমানা · ড্রাইভিং লাইসেন্স করা · ক্যামেরা ই-জরিমানা