মূল অংশে যান
suggest.bike
সব রক্ষণাবেক্ষণ গাইড

9 মিনিটের পড়া · আপডেট 2026-10-15

সেকেন্ড-হ্যান্ড লিকুইড-কুলড বাইক কেনার আগে কী দেখবেন

Yamaha R15 V3 ও V4, MT-15 V2, XSR155 ও Aerox 155, Honda CBR150R, Suzuki GSX-R150, KTM Duke 125 ও RC 125, আর Hero Karizma XMR 210-এর মতো লিকুইড-কুলড বাইকের জন্য। এখানে বাড়তি বড় ঝুঁকি হলো অযত্নে থাকা বা শুধু পানি ভরা কুলিং সিস্টেম।

যা লাগবে

  • একটি টর্চ, পরিষ্কার ন্যাকড়া, আর বাইক বোঝেন এমন বন্ধু বা মেকানিক
  • টেস্ট রাইডের জন্য নিজের লাইসেন্স আর হেলমেট

ধাপগুলো

  1. বাইক দেখার আগেই কাগজ দেখতে চান: BRTA রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (স্মার্ট কার্ড, বা পুরনো ব্লু বুক), ট্যাক্স টোকেন, ইন্স্যুরেন্সের কাগজ আর বিক্রেতার এনআইডি। মোটরসাইকেলে ফিটনেস সার্টিফিকেট লাগে না, তাই ওটা খোঁজার দরকার নেই।
  2. রেজিস্ট্রেশনের নাম আর বিক্রেতার এনআইডির নাম মিলিয়ে দেখুন। বাইক অন্য কারো নামে থাকলে, মালিকানা বদলের কাগজে আসল মালিককেই আপনার সাথে সই করতে হবে। সেই সই ছাড়া BRTA বাইক আপনার নামে করবে না।
  3. চেসিস নম্বর (ফ্রেমে খোদাই করা, সাধারণত হ্যান্ডেলের নিচে স্টিয়ারিং হেডের কাছে) আর ইঞ্জিন নম্বর (ইঞ্জিনের কেসিংয়ে) পড়ুন। দুটোই রেজিস্ট্রেশনের সাথে হুবহু মিলতে হবে। ঘষা, নতুন করে খোদাই করা, রং দিয়ে ঢাকা বা এলোমেলো অক্ষর দেখলে সেখানেই কেনা বাদ দিন।
  4. নম্বর প্লেট হতে হবে BRTA-র দেওয়া ডিজিটাল (রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ) প্লেট, আর নম্বর কাগজের সাথে মিলতে হবে। হাতে বানানো বা না-মেলা প্লেট হলে পরিষ্কার ব্যাখ্যা চান।
  5. ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ কবে শেষ দেখুন। মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বকেয়া আর জরিমানা সাধারণত পরের মালিকের ঘাড়েই পড়ে, তাই টাকা দেওয়ার আগেই ঠিক করুন কে দেবে।
  6. বাইকের নামে কোনো ট্রাফিক মামলা বা ই-ফাইন বাকি আছে কি না জিজ্ঞেস করুন, আর টাকা দেওয়ার আগে নিজে অফিসিয়াল অনলাইন সেবায় যাচাই করুন (কীভাবে, তা আমাদের ই-ফাইন গাইডে আছে)। বকেয়া মামলা বাইকের সাথেই থেকে যায়।
  7. একটি বিক্রয় রসিদ লিখুন: দুজনের এনআইডি নম্বর, তারিখ, দাম, চেসিস আর ইঞ্জিন নম্বরসহ, আর দুজনেই সই করুন। তারপর দেরি না করে BRTA-তে মালিকানা বদল করুন। সেটা না হওয়া পর্যন্ত আইনত বাইক বিক্রেতার নামেই থাকে।
  8. স্টার্টের আগে, ইঞ্জিন ঠান্ডা অবস্থায়: রিজার্ভারে কুল্যান্ট লো আর ফুল দাগের মাঝে থাকা উচিত। গরম ইঞ্জিনে কখনো রেডিয়েটরের ক্যাপ খুলবেন না।
  9. কুল্যান্টের রং দেখুন। ঠিক কুল্যান্ট স্বচ্ছ আর রঙিন, সাধারণত সবুজ, নীল বা গোলাপি। মরচে-বাদামি, ঘোলা বা শুধু পানি হলে সতর্ক হোন। অনেক সেকেন্ড-হ্যান্ড বাইকে কলের পানি দিয়ে চালানো হয়, এতে ভেতরে আস্তর জমে আর ক্ষয় ধরে; আলাদা ধরনের কুল্যান্ট মেশানোও ঠিক নয়।
  10. কুল্যান্টে তেলের আস্তর বা বুদবুদ, অথবা সাইট গ্লাসে দুধের মতো অয়েল মানে হতে পারে হেড গ্যাসকেট নষ্ট, অয়েল আর কুল্যান্ট মিশে যাচ্ছে। গরম হওয়ার পরও মিষ্টি গন্ধের সাদা ধোঁয়া একটানা বের হলে একই ইঙ্গিত।
  11. বিক্রেতাকে বলুন আপনি পৌঁছানোর আগে যেন বাইক স্টার্ট বা চালানো না হয়, আর গিয়ে ইঞ্জিনে হাত দিয়ে দেখুন। ঠান্ডা থাকা উচিত। গরম ইঞ্জিনে স্টার্টের সমস্যা, ধোঁয়া আর শব্দ লুকিয়ে যায়।
  12. স্টার্ট দিয়ে সাইলেন্সারের দিকে তাকান, তারপর কয়েকবার রেভ দিন। ঠান্ডা সকালে হালকা সাদা বাষ্প এক মিনিটে মিলিয়ে গেলে স্বাভাবিক। নীল বা ধূসর ধোঁয়া মানে ইঞ্জিন অয়েল পুড়ছে (রিং বা ভালভ সিল ক্ষয়)। কালো ধোঁয়া মানে তেল বেশি পুড়ছে, মিক্সচার রিচ।
  13. আইডলে আর গরম হওয়ার সময় কান পাতুন। হালকা, সমান টিকটিক শব্দ স্বাভাবিক। ওপর থেকে জোরে ঠকঠক, নিচ থেকে ধাক্কার মতো শব্দ, স্টার্টের পর প্রথম কয়েক সেকেন্ড ঝনঝন, বা ঘষার শব্দ ভালো লক্ষণ নয়। সিলিন্ডার হেড আর সিলিন্ডারের গোড়ায় অয়েল চুইয়ে পড়ছে কি না দেখুন।
  14. স্টার্ট নিতে কষ্ট, টান কম আর সাথে নীল ধোঁয়া মানে ইঞ্জিনের ওপরের অংশ ক্লান্ত (কম্প্রেশন কম)। মেকানিক গেজ দিয়ে কয়েক মিনিটেই কম্প্রেশন মেপে দিতে পারেন।
  15. রেডিয়েটর আর হোস: পাত বাঁকা বা বন্ধ কি না, হোসের জোড়া আর ক্যাপে লিক বা সবুজ-সাদা আস্তর আছে কি না, আর হোস শক্ত, ফাটা বা ফোলা কি না দেখুন। R15 বা RC 125-এর মতো ফেয়ারিং বাইকে বদলানো বা বাঁকা রেডিয়েটরও পড়ে যাওয়ার চিহ্ন।
  16. ওয়াটার পাম্প: ইঞ্জিন কেসিংয়ে পাম্পের নিচের ছোট ফুটোটা (উইপ হোল) খুঁজুন। সেখানে শুকনো কুল্যান্টের দাগ বা ফোঁটা মানে পাম্পের সিল যাচ্ছে।
  17. এগুলোও ফুয়েল-ইনজেক্টেড: চাবি অন করলে এফআই লাইট অল্প সময় জ্বলে স্টার্টের পর নিভে যাওয়া উচিত, আর ঠান্ডায়ও ঝামেলা ছাড়া স্টার্ট নেবে। পুরো তালিকা এয়ার-কুলড এফআই গাইডে আছে।
  18. টেস্ট রাইডের পর ফ্যান পরীক্ষা: গরম না হওয়া পর্যন্ত আইডলে চলতে দিন। ফ্যান নিজে থেকে চালু হয়ে তাপমাত্রা আবার নামানো উচিত। ফ্যান কখনো না চললে বা টেম্পারেচার লাইট জ্বললে ঠিক না করা পর্যন্ত কিনবেন না।
  19. সরাসরি জিজ্ঞেস করুন কখনো ওভারহিট হয়েছিল কি না। ইঞ্জিনের কাছে সাইলেন্সার পাইপের রং বদলে যাওয়া, তাপে শক্ত হয়ে যাওয়া হোস আর বারবার কমে যাওয়া কুল্যান্ট লেভেল তারই চিহ্ন।
  20. ক্লাচ স্লিপ টেস্ট: উঁচু গিয়ারে কম গতিতে হঠাৎ থ্রটল খুলুন। রেভ লাফিয়ে উঠল কিন্তু বাইক তেমন জোরে গেল না, মানে ক্লাচ প্লেট ক্ষয়ে গেছে। নিউট্রালও সহজে পাওয়া উচিত, আর লিভারে একটু ঢিলা থাকা উচিত।
  21. চেইন আর স্প্রকেট: পেছনের স্প্রকেটের পেছন দিক থেকে চেইন টেনে তোলার চেষ্টা করুন। অনেকখানি উঠে ফাঁক দেখা গেলে চেইন লম্বা হয়ে গেছে। দাঁত হুকের মতো বা সুচালো হলে চেইন আর দুই স্প্রকেটই বদলানোর সময়।
  22. দুর্ঘটনার চিহ্ন: হ্যান্ডেলের মাথা, লিভার, ফুটপেগ, আয়না বা ইঞ্জিন কাভারে ঘষার দাগ; ট্যাংকে টোল; বাকিগুলোর সাথে না-মেলা নতুন প্যানেল; ফ্রেমে ওয়েল্ডিং বা নতুন রং। সামনে আর পেছনে দাঁড়িয়ে দেখুন: দুই চাকা এক লাইনে থাকা উচিত, আর সামনের চাকা সোজা থাকলে হ্যান্ডেলও সোজা থাকা উচিত।
  23. ফর্ক আর স্টিয়ারিং: ফর্কের চকচকে টিউবে অয়েল, মরচে বা ছোট গর্ত আছে কি না দেখুন। সামনের দিক কয়েকবার চেপে ছাড়ুন; মসৃণভাবে উঠে আসা উচিত, ঠকঠক শব্দ ছাড়া। হ্যান্ডেল এক পাশ থেকে আরেক পাশে ঘোরান; মসৃণ হওয়া উচিত, আটকে আটকে বা ঢিলা নয়।
  24. বন্যার ক্ষতি, বর্ষার পর যা প্রায়ই দেখা যায়: যেখানে ধোয়ার পানি পৌঁছায় না সেখানে শুকনো কাদা বা পলি (সিটের নিচে, এয়ার বক্সে, তারের প্লাগের আশপাশে, হেডলাইটের পেছনে), কানেক্টরে সবুজ বা সাদা আস্তর, বাইকের নিচের দিকের বোল্টে মরচে, হেডলাইট বা মিটারের ভেতরে ঝাপসা ভাব বা পানির দাগ, স্যাঁতসেঁতে গন্ধ, আর দুধের মতো ইঞ্জিন অয়েল।
  25. ওডোমিটার: শুধু সংখ্যার ওপর ভরসা করবেন না। মেকানিক্যাল আর ডিজিটাল দুই ধরনের মিটারই পিছিয়ে দেওয়া যায়। সার্ভিস বুকের সিলের সাথে মিলিয়ে দেখুন, আর গ্রিপ, ফুটপেগের রাবার, গিয়ার লিভার, ব্রেক প্যাডেল, সিট, টায়ার আর চেইনের ক্ষয়ের সাথে। কিলোমিটার খুব কম অথচ রাবার ক্ষয়ে গেছে আর চেইন ঢিলা, এ হিসাব মেলে না।
  26. নিজের লাইসেন্স আর হেলমেট নিয়ে ফাঁকা রাস্তায় টেস্ট রাইড দিন। সব গিয়ার ওঠানামা করুন, মাঝারি গতি থেকে একবার জোরে ব্রেক করুন, হালকা হাতে সোজা চালিয়ে দেখুন এক পাশে টানে কি না, আর হর্ন, লাইট, ইন্ডিকেটর, সেলফ স্টার্ট আর কিক (থাকলে) পরীক্ষা করুন।
  27. টাকা দেওয়ার আগে নিজের বিশ্বস্ত মেকানিক দিয়ে দেখান, বিক্রেতার আনা মেকানিক দিয়ে নয়। ওপরের কোনো কিছু নিয়ে খটকা লাগলে সেটা দেখিয়ে দাম কমান, নয়তো কেনা বাদ দিন।

সাধারণ ভুল

  • ওই মডেল আর বছরের সাধারণ সেকেন্ড-হ্যান্ড দামের চেয়ে অনেক কম দাম দেখে লাফিয়ে পড়া। এর পেছনে সাধারণত থাকে চুরির বাইক, বন্যা বা দুর্ঘটনার ক্ষতি, অথবা কাগজ নেই বা হস্তান্তর করা যায় না। বাড়তি সাবধান হোন, নয়তো সরে আসুন।
  • আসল কাগজ দেখা আর নিজে নম্বর মেলানোর আগেই বাইক 'আটকে রাখতে' অগ্রিম টাকা দেওয়া।
  • 'কাগজ পরে দেব' কথায় কেনা, বা শুধু রেজিস্ট্রেশনের ফটোকপি দেখে কেনা।
  • রাতে, বৃষ্টিতে বা সদ্য ধোয়ার পর বাইক দেখা। পানি লিক লুকায়, আর অন্ধকারে টোল আর ধোঁয়া চোখে পড়ে না।
  • 'রেডিয়েটরে শুধু পানি, এখানে তাতেই চলে' কথায় বিশ্বাস করা। কুল্যান্টের ক্ষয়রোধী সুরক্ষা ছাড়া পাম্প আর রেডিয়েটর দ্রুত নষ্ট হয়; ঠিকভাবে ফ্লাশ করে নতুন কুল্যান্ট ভরানোর হিসাব রাখুন।
  • বিক্রেতা বাইক গরম করার পরে কুল্যান্ট দেখা। গরম অবস্থায় লেভেল অন্যরকম দেখায়, আর ক্যাপ খোলাও নিরাপদ নয়।

কখন মেকানিকের কাছে যাবেন

  • সবসময়, টাকা দেওয়ার আগে। ছোট একটা পরীক্ষার খরচ ভুল বাইক কেনার ক্ষতির চেয়ে অনেক কম।
  • নীল ধোঁয়া, ঠকঠক শব্দ, ক্লাচ স্লিপ বা এক পাশে টানা: রাজি হওয়ার আগে কম্প্রেশন টেস্ট বা ফ্রেম চেক করিয়ে মেরামতের খরচ জেনে নিন।
  • কোনো লিক চোখে না পড়লেও কুল্যান্ট বারবার কমে যায়, বা কুল্যান্টে অয়েল: টাকা দেওয়ার আগে কুলিং সিস্টেমের প্রেসার টেস্ট বা হেড গ্যাসকেট চেক করান, নয়তো কেনা বাদ দিন।

এটি সাধারণ কমিউটার মোটরসাইকেলের জন্য সাধারণ পরামর্শ। আপনার বাইকের প্রেসার, সময় আর অয়েল গ্রেডে ওনার্স ম্যানুয়ালই শেষ কথা। নিশ্চিত না হলে বিশ্বস্ত মেকানিকের পরামর্শ নিন।

আরও গাইড